
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবির করতে গিয়ে জামায়াত ও বিএনপির আট নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের এ ঘটনায় পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক ব্যক্তিদের মুচলেকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াতের সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) ও বাদল প্রামাণিক (৫০)। এছাড়া বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত শহীদুল ইসলাম (৫৩) রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাশকতা মামলায় হাফিজুর রহমান হাফিজ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মিরপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশের দাবি, হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে আটজন থানায় আসেন। তারা হাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে তদবির ও চাপ দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ তাদের ওই আসামিকে ছাড়ার জন্য তদবির না করতে নিষেধ করে। তবে নিষেধ করার পরও তারা বারবার একই দাবি জানালে পুলিশ তাদের আটক করে।
মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাও. শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাতে আওয়ামী লীগের হাফিজুর রহমান হাফিজ নামের এক কর্মীকে নাশকতা মামলায় আটক করে পুলিশ। হাফিজ চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের চাচাতো ভাই। এই কারনে তিনি সহ বিএনপির আরও কিছু লোকজন তাকে থানায় ছাড়তে যাই। পুলিশ তাদেরকেউ আটক করে । পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেও পুলিশ।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কয়েকজন থানায় এসে তদবির করেন। নিষেধ করার পরও তারা বারবার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তাদের আটক করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মুচলেকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আধুনিক মানের অনলাইন
সবার আগে সংবাদ পেতে ভিজিট করুন dhakapratidin.com