ঢাকা প্রতিদিন ঢাকা প্রতিদিন
সত্যের পথে সংবাদের সাথে
৩০% কমিশন না দিলে বিল পায়না ঠিকাদাররা কুষ্টিয়া এলজিইডির নির্বাহী রাজু’র বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদের কাছে জিম্মি কুষ্টিয়ার ঠিকাদাররা। এই কর্মকর্তাকে ঘুষ না দিলে এই অফিসে হয়না কোন কাজ, হতে হয় নানা ভাবে হয়রানীর স্বীকার। ঘুষ দিলেই নিম্নমানের কাজও পায় বৈধতা, পলাতক আওয়ামীলীগ নেতাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও পায় ঠিকমত বিল, আর ঘুষ না দিলে সঠিক ভাবে কাজ সম্পন্ন করেও আটকে দেওয়া হয় বিল, এমনই অভিযোগ ঠিকাদারদের। কুষ্টিয়া এলজিইডি অফিসের প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার আব্দুস সামাদ খান জানান, ২০২৫-২৬অর্থ বছরে এলজিইডির ৪ টি সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেন তিনি। প্রতিটি কাজের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদকে ৩০ শতাংশ ঘুষ না দেওয়ায় কোন বিল’ই পাননি তিনি। ল্যাব টেস্টে উপকরনের মান সঠিক থাকলেও নানা অযুহাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ক’টি কাজ। এর পেছনে রয়েছে আরও একেউপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম। তিনি কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী। তিনিও ঘুষ ছাড়া কোন কাজ করেননিা বলে অভিযোগ তার। এছাড়াও সদর উপজেলার বাড়াদি এলাকার একটি রাস্তার কাজ করতে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদের অবৈধ আদেশ একজনের বাড়ির সামনে রাস্তা করে না দেওয়ায় বিল আটকে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ঠিকাদারের অভিযোগ, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদের দাবী করা ৩০ শতাংশ ঘুষ না দেওয়ায় সব ঠিক থাকলেও কাজ বন্ধ করে দিয়ে বিল আটকিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে তাকে। শুধু তাই’ই নয়, ঘুষ দিলেই নিম্নমানের কাজও পায় বৈধতা, পলাতক আওয়ামীলীগ নেতাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও পায় ঠিকমত বিল, আর ঘুষ না দিলে সঠিক ভাবে কাজ সম্পন্ন করেও আটকে দেওয়া হয় বিল, এমনই অভিযোগ অন্যান্য ঠিকাদারদেরও। ঠিকাদার আহম্মেদ তালাশের অভিযোগ, তার ২ টি কাজও একই কারনে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনিও ঠিকঠাক ভাবে। রাস্তার কাজ করলেও তাকেও করা হচ্ছে হয়রানী। অথচ পলাতক আওয়ামীলীগের কামারুল আরেফিন, আতাউর রহমান আতা, মাহবুবউল আলম হানিফসহ অনেকেরই ফেলে রাখা কাজ রাজু আহম্মেদ লোক দিয়ে করিয়ে তাদের একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তার। একই সাথে কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুলের বিরুদ্ধেও ঘুষ ছাড়া কাজ না করার অভিযোগ তুলেন তিনি। এরকম অবস্থায় আছে আরও অনেক ঠিকাদারই। তাদেরও অভিযোগ প্রকৌশলী রাজুর বিরুদ্ধে। তাই এর থেকে পরিত্রান পেতে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চিফ ইন্জিনিয়ার, দুদকসহ ৭ টি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন তারা। তবে ঠিকাদারদের এসব অভিযোগ মানতে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ। সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার টেবিলে কোন ফাইল আটকে থাকেনা। তিনি কোন কমিশন নেননা। তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে গত এপ্রিলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলি হলেও তা আটকে যায় অদৃশ্য কারনে। এরপর থেকে আরও বেপরয়া হয়ে উঠেন এই কর্মকর্তা। তাই দ্রুত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিওয়ার দাবী ঠিকাদারদের

