নিজস্ব প্রতিবেদক।। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ও শত্রুতার জেরে চাচাতো ভাইদের দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিমুলিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-শিমুলিয়া গ্রামের মৃত সোনা প্রামানিকের ছেলে আজাহার প্রামানিক (৬০), তাঁর স্ত্রী বানু বেগম (৫০), মেয়ে মুক্তা খাতুন (২২), ছেলে মানিক প্রামানিক (৪৬), বিপ্লব প্রামানিক (২৬) এবং আজাহার আলীর জামাই ছৈয়প আলী (৩০)। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে ওই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে বাড়ির পাশের একটি বিতর্কিত জমিতে আজাহার প্রামানিকের লোকজন ঘেরা বা বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করেন। এ সময় প্রতিপক্ষ তাতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষ লাঠিসোটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত আজাহার আলী অভিযোগ করে বলেন, “আব্দুল রাজ্জাকের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোটা, দেশি অস্ত্র, চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই হামলায় আব্দুল রাজ্জাক ও আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একই গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আমিরুল, আক্কাস আলীর ছেলে আক্তার ও মিঠুন, আলার ছেলে আজিম, আরিফ হোসেনের ছেলে নাঈম, আসালত আলীর ছেলে রাজ্জাক, মুনার ছেলে রুবেল, রুবেল আলীর ছেলে রাসেল এবং শাহজাহানের তিন ছেলে সুমন, শহিদুল ও সজীব অংশ নেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, “তাদের জমি জবরদস্তি করে মাপার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বাধা দেওয়াই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় উভয় পক্ষের কেউই কুষ্টিয়া মডেল থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। থানার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ঘটনাটি জেনে নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।