ঢাকা প্রতিদিন ঢাকা প্রতিদিন
সত্যের পথে সংবাদের সাথে
অভিযুক্ত চক্ষু হাসপাতালে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় ও ভোজ, তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক:ভুল চিকিৎসায় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর অভিযোগে তদন্তাধীন কুমারখালীর একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জনের মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ ও আতিথেয়তা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তারা বিচার প্রত্যাশা করছেন, সেই প্রতিষ্ঠানেই স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন উপস্থিতি তাদের উদ্বিগ্ন করেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার সেরকান্দী গ্রামের ডালিয়া খাতুন গত ৯ আগস্ট কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল কুমারখালীর বিশ্বাস কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতালে ছানি অপারেশনের জন্য ভর্তি হন তিনি। অপারেশনের সময় চোখে ইনজেকশন দেওয়ার পর তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। পরদিন ব্যান্ডেজ খোলার পর তিনি দেখতে পান, তার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি নেই।
ডালিয়ার দাবি, পরবর্তীতে বিভিন্ন চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা নিয়েও তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।এদিকে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কুমারখালীর ওই বিশ্বাস কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতালেই কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন।‘বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন, কুমারখালী-খোকসা উপজেলা শাখা’ আয়োজিত সভায় কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপর্ণা লতিফ আহমেদ এবং খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।সভা শেষে সিভিল সার্জনকে আতিথেয়তা ও খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। অভিযোগকারী ডালিয়া খাতুনের ভাষ্য, তার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় একই প্রতিষ্ঠানে সিভিল সার্জনের এমন উপস্থিতি তাকে হতাশ করেছে।
ডালিয়া খাতুন বলেন, “আমি ন্যায়বিচারের আশায় সিভিল সার্জন স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, যে হাসপাতালে আমার চোখ নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছি, সেখানেই স্যার গিয়ে সভা করছেন ও খাবার গ্রহণ করছেন। তাহলে আমি কীভাবে বিচার পাব?”এ ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের এমন আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন অনেকে।তবে অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং সিভিল সার্জনের অবস্থান জানা যায়নি। বক্তব্য জানতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।এ বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি তখন তালা-পাইকগাছা এলাকায় সরকারি কাজে বাইরে ছিলেন এবং বাসায় ফিরে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তিনি পরদিন যোগাযোগ করতে বলেন।অভিযোগটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং ভুক্তভোগী ডালিয়া খাতুনের অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

