ঢাকা প্রতিদিন ঢাকা প্রতিদিন
সত্যের পথে সংবাদের সাথে
মিরপুরে ভেজাল সার-কীটনাশকের ছড়াছড়ি শঙ্কায় কৃষকরা, ফলন ব্যাহত হওয়ার আশংকা


মিরপুর প্রতিনিধি॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় একের পর এক অভিযানে ভেজাল সার ও কীটনাশক উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ ও শঙ্কা বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। চড়া দামে কেনা সার ও কীটনাশক জমিতে ব্যবহার করে তারা আদৌ কাঙ্ক্ষিত ফল পাবেন, নাকি অজান্তেই জমিতে প্রয়োগ করছেন ভেজাল পণ্য—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কৃষকদের মনে। কৃষকদের আশঙ্কা, বাজার থেকে আসল পণ্যের দাম দিয়ে সার ও কীটনাশক কিনলেও সেগুলো আসল না নকল, তা সাধারণভাবে বোঝার কোনো উপায় নেই। ফলে ফসলের উৎপাদন ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মো. মতিয়ার রহমান মুন্না। এর আগে তিনি গাংনী উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভেজাল সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেন তিনি। গত দুই মাসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১৮টি ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল সার ও কীটনাশক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধারাবাহিক অভিযানে ভেজাল পণ্য উদ্ধারের ঘটনা কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। কারণ, বাজার থেকে কেনা পণ্যের মান যাচাই করার সক্ষমতা অধিকাংশ কৃষকের নেই। অথচ ফসলের উৎপাদন অনেকটাই নির্ভর করে মানসম্মত সার ও কীটনাশকের ওপর। কৃষকদের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে ভেজাল পণ্য উদ্ধার করলেই হবে না, ভেজাল সার ও কীটনাশকের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বাজারে বিক্রি হওয়া সার ও কীটনাশকের মান নিয়মিত পরীক্ষা এবং বৈধ পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে। কৃষকদের প্রশ্ন, যে সার ও কীটনাশক কিনে তারা ফসল ফলাচ্ছেন, তার নিশ্চয়তা দেবে কে? ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি কৃষকের জমি, ফসল ও বিনিয়োগের সুরক্ষাও নিশ্চিত করা জরুরি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান মুন্না বলেন ভেজাল সার, বিষ ও বিজ কেউ যেন বাজার জাত করতে না পারে তার জন্য অভিযান চলমান থাকবে।

